Ultimate magazine theme for WordPress.

ঔষধ নামের বিষ!

গতবছর আমার অপারেশনের পর এন্টিবায়োটিকের সাইড ইফেক্টে আমার স্কিন যথেষ্ট কালো হয়ে যায় এবং ওজন অতিরিক্ত কমে যায়। খাবার রুচি চলে যাবার কারনে আমি কোনো কিছুই খেতে পারতাম না। প্রায় মাস খানেক পার হয়ে যাচ্ছিলো আমি ভাত খেতে পারতাম না, যাই মুখে দিতাম বমি হয়ে যেত। এরকম অবস্থায় বিভিন্ন ভিটামিন ও জিংক সিরাপ ট্রাই করেও কোনো লাভ হচ্ছিলো না। হঠাত এক বন্ধু আমাকে বললো মেজেস্টল খেতে,এই সিরাপ খেলে নাকি ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। ভাবলাম শেষবারের মতো চেষ্টা করে দেখি।যথারীতি আমি সিরাপ টি কিনে খাওয়া শুরু করলাম। ১০০ মিলি বোতলের মুল্য ৫০০ টাকা। প্রায় পাচ বোতল সিরাপ খেয়েছি আমি। প্রথম বোতল শেষ হওয়ার আগেই দুই দিনের ভিতরে আমার খাওয়াদাওয়া লিমিট লেস হয়ে গেলো।
এক কেজি গরুর মাংস আর দুই প্লেট ভাত দুপরে, সকাল ৭ টার ভিতরে দুই প্লেট খিচুড়ি, দুপর ২ টা থেকে ৪ টার ভিতরে আমি তিন বার ভাত খেতাম। তিন জনের খাবার আমি একাই খেতাম তারপরেও যেন ক্ষুধা রয়ে যেত। লকডাউনের ভিতরে আর কোনো কাজ না থাকায় সারাদিন আমার একমাত্র কাজ ছিলো খাওয়াদাওয়া এবং ঘুম। এভাবে ৮-১০ দিনের ভিতরে আমার ওজন ৪৩ কেজি থেকে ৬২ কেজি হয়ে গেলো। ৩০ মিনিট পর পর আমি পাগলের মতো ভাত খেতাম। এখন ভাবতেও অবাক লাগে এই আমি তখন ২ কেজি গলদা চিংড়ী একবেলায় খেয়ে ফেলতাম, আমার খাবার থেকে অন্য কেউ এক পিস মাছ খেলে মনে হতো রাগে তাকেই খেয়ে ফেলি। ওজন তো বাড়লো ঠিকই তবে ওজনের সাথে সাথে সমস্যাও দেখা দিতে থাকলো। আমার পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যায় এবং যৈবিক চাহিদা একদমই চলে গিয়েছিলো।
ডা: কামরান উদ্দিনের কাছে বিগত ছয়মাস আগে দুই আড়াই বছরের ফুটফুটে একটা বাচ্চা যায়। বাচ্চার পিতা মাতার অভিযোগ,একমাস হচ্ছে ছোট্ট বাচ্চার ব্রেস্ট বড় হয়ে যাচ্ছে। আসলেই সত্যি বাচ্চাটার ব্রেস্ট বড় হয়ে যাচ্ছে।চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটাকে বলে Gynecomastia. তিনি বাচ্চাটার হিস্ট্রি নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাচ্চা কিছু খেতে চায়না এই কারণে মাস দুয়েক আগে শহরের এক বড় চিকিৎসক দেখিয়েছেন বাচ্চার পরিবার।চিকিৎসক ঔষধ দিয়েছেন।এখন বাচ্চা খাবার খায়। কিন্তু বাচ্চার অন্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।তিনি ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশনটা দেখেন মেডিসিনে সিরাপ মেজেস্টল লিখা।এক চামচ করে তিনবার।বাচ্চার বাবা মা কে জিজ্ঞেস করেন “এই সিরাপটা কয়টা খাওয়াইছেন?” পিতা বলল, তিন চারটে হবে, এখনো চলছে। তিনি সিরাপটা “না খাওয়ানোর” জন্য অনুরোধ করেন। কয়েকটি হরমোনাল পরীক্ষা দেয়। বাচ্চার মেয়েলি হরমোন বেড়ে গিয়েছে।
একবছর ধরে ইয়াং ছেলেদের মধ্যে বিয়ের আগে ডাক্তার দেখানোর একটা প্রচলন দেখা যায়। প্রায় ইয়াং ছেলেগুলো যায় একটাই প্রবলেম নিয়ে, তাদের জৈবিক চাহিদা কমে গেছে কাম উত্তেজনা হয়না বললেই চলে। অনেকের আবার দ্রুতপতন,স্থায়িত্ব কম,( Erectile dysfunction, premature ejaculation) ইত্যাদি রোগও দেখা যায়। তিনি সবার হিস্ট্রি জানার চেষ্টা করেন। এই সব স্মার্ট, সুদর্শন, ছেলে গুলো এপেটিজ সিরাপ অথবা মেজেস্টল সিরাপ চিকিৎসকের পরামর্শে অথবা বিনাপরামর্শে স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন সেবন করছে। তাই আজ তাদের এই অবস্থা।

চলুন, এই নীরব ঘাতক মেজেস্টল ও এপেটিজ সিরাপ সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে আসি –

সিরাপ টার জেনেটিক নাম মেজেস্ট্রল এসিটেট। এটা একধরনের হাইড্রক্সিপ্রজে
স্টেরন হরমোন। স্টেরয়েড জাতীয়। এটা ব্রেস্ট ক্যান্সারে নির্দেশিত তবে কিছুক্ষেত্রে এইডস রিলেটেড কিংবা কেমোথেরাপি রিলেটেড ক্ষুধামন্দায় নির্দেশিত। কিন্তু চিকিৎসক, কোম্পানির,মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের কথায় বিশ্বাস রেখে যে কোন ধরনের ক্ষুধামন্দায়,ভিটামিন হিসেবে যেকোন বয়সী মানুষকে দিয়ে দিচ্ছে। যদিও মেডিসিনটি ৬৫ বছরের উর্ধ্বে বয়স্কদের জন্য এবং ১২ বছরে নিচে

কোন ভাবেই ব্যবহার করার যাবেনা

কিন্তু চিকিৎসকগন এসব না ভেবে, যাচ্ছেতাই ভাবে রোগিদেরকে ভিটামিন হিসেবে যেকোন ক্ষুধামন্দায় দিয়ে দিচ্ছে।”এই সিরাপ খেলে মোটা হয়” কথাটি একজন থেকে আরেকজন শুনে শুনে মানুষ “মারাত্মক” এই ঔষধটি খাচ্ছে। ফলে ঔষধের সাইডইফেক্ট ও মিসইউজ এর শিকার হচ্ছে।

যেসব সাইড ইফেক্ট হয়

যেহেতু ঔষধটি হাইড্রক্সি প্রজেস্টোরন (একধরনের মেয়েলি হরমোন) তাই এই ঔষধ ব্যবহারে ৪৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের মেন্স সার্কেল অনিয়মিত হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন মেন্স(ঋতু) না হওয়ায় জরায়ুতে Endometriosis হতে পারে।
এলবুমিনুরিয়া, লিউকোরিয়াও হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ছেলেদের।তাদের সেক্সুয়াল আসক্তি কমে যায়। উত্থান হয়না।দ্রুত আউট হয়ে যায়। এটা মেয়েলি হরমোন হওয়ার কারণে, অনেক ছেলেদের মেয়েলি স্বভাব চলে আসতে পারে,কন্ঠ মেয়েলি মেয়েলি হয়ে যেতে পারে,স্তন বড় হয়ে যেতে পারে,এমনকি! ইম্পোটেন্স impotence (বন্ধা) হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাছাড়া মাথায় টাক হতে পারে,আবার চামড়া সাদা সাদা (আংশিক শ্বেতী) হতে পারে,চর্মরোগও হতে পারে,আর যদি ঔষধ খাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়,
পূর্বের ন্যায় আবারও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়।যেটুকু স্বাস্থ্যবান হয়েছিল তার চেয়ে বেশি ওজন কমে যায়,শরীরের ভেতর জ্বর লেগেই থাকে,কলিজা কাপা বেশি হতে পারে(Tachycardia)
কলিজা ধুপধাপ করে, চোখ মুখ অন্ধকার হয়ে, নিশ্বাস স্লো হয়ে যেতে পারে।মনে হবে এই বুঝি প্রাণ বের হয়ে যাবে,অন্যরকম চটপটানি হবে,(Panic disorder) দিনে অনেকবার এই রকম চটপটানি হবে। চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয়ে বার বার ব্যর্থ হবেন। এটাই “মেজেসট্রল এসিটেট” সাইডইফেক্ট। ঠিক স্টেরয়েড খাওয়ার মতন। ছেলেদের ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি।
এই ঔষধ, মেজেস্টল নামে জিসকা ফার্মার,এপেটিজ নামে এরিস্টোফার্মার, মেজেস্ট নামে বিকন ফার্মার,মেস্ট্রল নামে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, মেজোক্সিয়া নামে এভারেস্ট ফার্মার পাওয়া যায়।
মনে রাখবেন,এটা ক্ষুধাবৃদ্ধির ভিটামিন নয় এটা একটা বিষ। এই মেডিসিন এড়িয়ে চলুন।নিজে সচেতন হউন। অন্যকে সচেতন করুন।

 

সূত্র – Mehenil Tasnim Joya-র ফেসবুক থেকে নেয়া।

Comments by Facebook