Ultimate magazine theme for WordPress.

ঘরে বসেই সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন

সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন অনলাইন-অফলাইন দুভাবেই করা যায়। তবে দালাল বা কোন প্রকার থার্ড পার্টি ছাড়া ঝামেলামুক্ত ভাবে কাজ করার জন্য অনলাইন আমার সাজেশনে থাকবে।

কারণ এখানে হাতে ফ্রম ফিলাপ করার কিছু নাই। হাতে লিখলে আপনার ভুল ওরা ধরবেই। এই জন্য অনলাইন করা সুবিধাজনক। আপনাকে দৌড়াদৌড়ি/পরিশ্রম কিছুটা কম করতে হবে। তাই আমি আজকে শুধু অনলাইন প্রসেস নিয়ে লিখবো। আমি গতকালকে (০৯/১০/১৯ ইং) আমার সংশোধিত সার্টিফিকেট হাতে পেয়েছি। তাই প্রথমেই আমার খরচের হিসাব দেই তাহলে পরবর্তী কাজ সহজে বুঝতে পারবেন।

আবেদেন ফি ৫৫৮×2= ১১১৬ টাকা (এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি)
সার্টিফিকেট উত্তলন ফি ৫৫৮×২= ১১১৬ টাকা (২টি)
মার্কশিট ৫৫৮*২ = ১১১৬ টাকা

পেমেন্টস ২ ভাবে করা যায়

ব্যাংক পেমেন্ট- সোনালি ব্যাংকে পেমেন্ট করলে ৫৫৮।
বিকশা পেমেন্টস করলে – ৫০৯ টাকা।

ট্রান্সপোর্ট বাবদ আরো কিছুটা খরচ হবে। তবে ২ টি সার্টিফিকেটের + মার্কশিটের জন্য মোটামোটি ৩০০০-৩৫০০ টাকা খরচ হবে। এই কাজটি করতে হলে, আপনি যেই স্কুল বা কলেজে লেখাপড়া করেছেন সেটির সাহায্য লাগবে। (অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই)

আপনার বাবা-মা নাম সংশোধন হলে উনাদের সার্টিফিকেট বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড /আপনার নিজের হলে জন্ম সনদ নিয়ে সরাসরি আপনার প্রতিষ্ঠানে চলে যান।

এই কাজটি আপনি বাসায় বসে করতে পারবেন না, কারণ এটি কলেজের EIIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে করা হয়। এর একটিই সুবিধা আপনাকে শিক্ষা বোর্ডে যেতে হচ্ছে না, নিজের স্কুল থেকেই কাজ হয়ে যাবে। এ কাজটি সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন এর মতো এতোটাও সহজ নয়।

প্র‍য়জনীয় কাগজগুলো নিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানান। উনি আপনার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অপারেটরকে অনলাইন আবেদন করার জন্য নির্দেশনা দিবেন৷ তখন সে আপনার ডুকুমেন্ট স্ক্যান করে আবেদন করে দিবে এবং আপনার ফোনে ম্যাসেজ চলে আসবে সাথে সাথে।

তারপর উনি আপনাকে সোনালি ব্যংকে আবেদন ফি জমা দেওয়ার জন্য একটা রশিদ দিবেন। ৫৫৮ টাকা জমা দিতে হবে (প্রতিটির জন্য)(বিকশেও পেমেন্ট করা যায়)।

ক্যারিয়ার সংক্রান্ত আর্টিকেল পড়ুন, নিজেকে বদলান!

টাকা জমা দেওয়ার পর রশিদ অবশ্যই যত্ন করে রাখবেন। আবেদন ফি জমা না দিলে আপনার আবেদন গৃহীত হবে না। আবেদন ফি জমা করার পর আপনার জন্য এডুকেশন বোর্ডের ওয়েবসাইটে আলাদা একটা প্রোফাইল ক্রিয়েট হবে।

(লগ ইন লিংক: https://efile.dhakaeducationboard.gov.bd/…/name/lastupdate )

সেখানে লগ ইন করে আপনি আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই করে সর্বশেষ অবস্থা ট্রেক করতে পারবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর ঝিম ধরে ৩ মাস বসে থাকুন। আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ মাস বা এর বেশি সময় লাগবে।

যখন কাজ শেষ হবে তখন আপনার ফোনে ম্যাসেজ চলে আসবে এবং আপনি আপনার প্রোফাইলে লগ ইন করবেন। সেখানে আপনার জন্য নতুন একটা অপশান আসবে “ডুকুমেন্ট উত্তলন”।

সেই অপশনে গিয়ে আপনি ডকুমেন্টস উত্তোলনের আবেদন করবেন। এবার কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এখন আপনার কাছে সেই সাইটে লগ ইনের জন্য পাসওয়ার্ড আছে।

সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে যেই ডকুমেন্ট উত্তোলন করতে চান সেটার জন্য ঘরে বসে আবেদন করুন৷ (যদি বাসায় ককম্পিউটার না থাকে তবে যেকোন কম্পিউটারের কাজ করে এমন দোকানে এই কাজ করতে পারবেন) আবেদন করার পর উত্তোলন ফি বাবদ ৫৫৮ টাকার সোনালি ব্যংকে পে করার জন্য একটা ডকুমেন্টস পেয়ে যাবেন।

সেটা নিয়ে ব্যাংকে যান। আগের মতোই ফি জমা দিন। অথবা চাইলে বিকাশ পেমেন্ট করতে পারবেন। কাজ শেষ, এবার ১ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন।

তারপর আপনার ফোনে ম্যাসেজ আসবে আপনার ডকুমেন্টস রেডি। তখন আপনি আবার আপনার প্রোফাইলে লগ ইন করে উত্তোলন করার চুড়ান্ত ডকুমেন্টস আছে সেটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন।

এবার আপনাকে প্রথমবারের মতো শিক্ষা বোর্ডে যেতে হবে।সেখানে আপনার অরিজিনাল সার্টিফিকেট জমা দিন। সকালে জমা দিলে, বিকালেই পেয়ে যাবেন আপনার নতুন সংশোধিত সার্টিফিকেট।

আমার সম্পূর্ণ প্রসেসটা শেষ হতে ১৪৩ দিন সময় লেগেছে। তাই অনলাইনে কোন প্রকার তদবীর ছাড়া + অতিরিক্ত কোন টাকা প্রদান ছাড়া কাজটা করতে হলে আপনাকে একটু ধের্য ধরতেই হবে। আর মনে রাখবেন,,আপনি বৈধ উপায়ে কাজ করলে যে তৃপ্তিটা পাবেন সেটা আর কিছুতে পাবেন না। আর এখন এটা আরো সহজ, কারো টেবিলে ফাইল নিয়ে দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই।

আমাদের সাথে থাকুন এবং এমন টিপস আরও পান!

Comments by Facebook