Ultimate magazine theme for WordPress.

বাংলাদেশী নারীদের বিশ্বজুড়ে সম্মাননা

বাংলাদেশী নারীদের জন্য একটি খুব গর্বের সপ্তাহ। অভিনেত্রী বাধন, শেফ কিশওয়ার এবং বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম দেশে এবং প্রবাসে অনেক বাংলাদেশীকে গর্বিত করেছেন এবং একটি নতুন মান স্থাপন করেছেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এর পরিচালনায় ‘রেহানা মরিয়ম নূর’  পেয়েছে সম্মাননা, আর এই বিরল সম্মানে অশ্রুশিক্ত হয়েছে এই চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ।এদিকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কিশওয়ার চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ এর ১৩তম সিজনে নানা রকম দেশি খাবার রান্না করে পৌঁছে গেছেন প্রতিযোগিতার শীর্ষ চারে। তিনি আবার প্রমাণ করলেন যে রান্না করা একটি শিল্প। অন্যজন হলেন সাদিয়া খানম যিনি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম একটি জীবাণুনাশক স্প্রে “ভল্টিক” আবিষ্কার করে চমক সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সাদিয়া। তিন বাংলাদেশী নারীর সাফল্য নিয়ে চ্যানেল ৭৮৬ এর বিশেষ আয়োজন –

আজমেরী হক বাঁধন

রেহানা মরিয়ম নূর

মহামারী করোনার এই সময়েও দুই বছর পর বসেছে মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৪তম আসর। কান উৎসবে এবার ইতিহাস গড়েছে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে কানের অফিসিয়াল বিভাগ ‘আঁ সার্তেইন রিগার্দ’-এ জায়গা করে নিয়েছে এটি। সিনেমাটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বুধবার (০৭ জুলাই) পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের সাল দুবুসি হলে ফ্রান্সের স্থানীয় ১১টা ১৫ মিনিটে  প্রথমবারের সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনী শুরুর আগে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দেখতে দর্শকদের লম্বা লাইন দেখা যায়। সিনেমা শেষে দর্শকরা দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের অভিবাদন জানান। এমন প্রাপ্তিতে সেখানে উপস্থিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। প্রদর্শনী শেষে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আসলে এই অনুভূতি বলে বোঝাতে পারবো না। অনেকটা ভয়ের মধ্যে ছিলাম।  বিশেষ করে যে সব দর্শকরা সাবটাইটেল দেখে সিনেমাটি বোঝার চেষ্টা করেছেন, তারা যখন আমাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালেন, বাংলাদেশ নিয়ে প্রশংসা করলেন- এইসব বিষয় কখনো বলে বোঝানো যায় না। আজকে আমি আমার মেয়েকে অনেক মিস করছি। ’ কানে বাঁধন ও পরিচালক সাদের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’র প্রযোজক জেরেমি চুয়া, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার শৈব, কালারিস্ট চিন্ময়, প্রোডাকশন ডিজাইনার উজ্জ্বল, সিনেমাটোগ্রাফার তুহিন,  এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার বাবু। প্রদর্শনীর আগে তারা সবাই কানের আকর্ষণীয় লাল গালিচায় হাঁটেন।

কিশওয়ার চৌধুরী

বাংলাদেশী

বাঙালিদের প্রিয় খাবারের তালিকায় থাকা মাছের ঝোল, বেগুন ভর্তা, ফুচকা, ডাল এসব সাধারন খাবার ই এখন আলোচনার তুঙ্গে । বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এসব খাবার অনেক জনপ্রিয়। এসব দেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচয় করিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কিশওয়ার চৌধুরী। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ এর ১৩তম সিজনে এসব দেশি খাবার রান্না করে পৌঁছে গেছেন প্রতিযোগিতার শীর্ষ চারে। কিশওয়ার চৌধুরীর জন্ম হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। তার বাবা বাংলাদেশি এবং মা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। বিয়ের পর তার বাবা-মা মেলবোর্নে স্থায়ী হন। দুই সন্তানের জননী কিশওয়ার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম সিজনে যাত্রা শুরু করেন মাছ আর কাঁচা আমের টক রান্না করে। পরে তিনি রান্না করেছেন বাঙালির মুখে জল আনার মতো চিংড়ি ভর্তা থেকে শুরু করে মাছ ভাজা। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে তিনি রান্না করেছেন খিচুড়ি, বেগুন ভর্তা, ফুচকা, চটপটি, সমুচা, আলুর দম আর তেঁতুলের চাটনি। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার রান্না করা মাঝের ঝোল। যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া তিনি রান্না করেছেন কালা ভুনা, খাসির রেজালাও। কিশওয়ারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি খাবার বিশ্বে তুলে ধরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি যদি দেশি খাবার রান্না না করি তাহলে এর স্বাদ আমার সঙ্গে হারিয়ে যাবে। আমি সত্যিকার অর্থে চাই আমার সন্তানদের জন্য এই স্বাদ রেখে যেতে। প্রতিযোগিতায় কিশওয়ারের রান্না সম্পর্কে এক বিচারক বলেছেন, সাধারণ খাবার যে লুকানোর কিছু না, সেটির সাক্ষ্য হলো এটি। এটি সেরা ও বিশ্বজয় করতে পারে। দেশি খাবারের পদ রান্নায় তিনি কিছুটা বদল এনেছেন। তবে বিচারকদের কথা মাথায় রেখে নয়। রান্নার একটি বই লেখা এবং পেশাদার কিচেনে রাঁধুনি হওয়া কিশওয়ারের এখনকার লক্ষ্য। তবে রেস্তোরাঁ চালু করার কোনও পরিকল্পনা এখনও নেই। উল্লেখ্য, বিশ্বের রান্নাবিষয়ক অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ত্রয়োদশ আসরের মূল পর্ব শুরু হয় ২০ এপ্রিল। নর্দার্ন টেরিটরিতে চলছে এই প্রতিযোগিতা।

সাদিয়া খানম

বাংলাদেশী

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম একটি জীবাণুনাশক স্প্রে “ভল্টিক” আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম। ইতোমধ্যেই বিশ্বের ১৩টি দেশ থেকে ভল্টিক নামে এ জীবাণুনাশকটির ১ কোটি অর্ডার পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী সাদিয়া। জানা গেছে, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ অন্যান্য জীবাণুকেও ধ্বংস করতে সক্ষম এ জীবাণুনাশকটি কেবল হাসপাতাল, হোটেল, মোটেল, রেস্তোঁরা কিংবা বিমানই নয়, ব্যবহার করা যাবে নিউক্লিয়ার স্টেশনেও! ১৪ মাসের প্রচেষ্টায় তৈরি এ জীবাণুনাশকটি নাসাসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র পিয়ার-পর্যালোচিত ল্যাবে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের সরকার ও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এটি কিনতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকি, এটি ব্যবহারের ফলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ৭০% সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলো। নতুন এ উদ্ভাবন প্রসঙ্গে সাদিয়া বলেন, “ছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। ১৪ বছর বয়সে এই ঝোঁক নেশায় পরিণত হয় যখন আমার দাদার আলঝেইমার ধরা পড়ে। আমি প্রতিরোধক তৈরির এ মিশনে নেমে পড়ি।” তিনি জানান, ভল্টিকের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য প্রথমে তাদের নিজেদের রেস্তোরাঁ ‘ক্যাফে ইন্ডিয়া’কে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “কোভিড-১৯ ও বাজারে উপস্থিত সমস্ত সাধারণ জীবাণুনাশক নিয়েও বিস্তর গবেষণা করে অবশেষে জীবাণু ধ্বংসের নিখুঁত সূত্রটি পেয়েছি এবং সেখান থেকেই ভল্টিকের সৃষ্টি।” এদিকে, মেয়ের এই উদ্ভাবনে গর্বিত বাবা কবির আহমেদ। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষকে যদি সাহায্য করতে পারি তাহলে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।” তবে পারিবারিক ব্যবসার সাথে নিজেকে না জড়িয়ে ছোটবেলা থেকেই গবেষণায় মন দিয়েছিলেন সাদিয়া। ব্ল্যাকবার্ন মাদ্রাসা থেকে সফলভাবে জিসিএসই এবং আলিমা কোর্স পাস করেন। পরবর্তীতে ম্যানচেস্টারের হলি ক্রস সিক্সথ ফর্ম কলেজে পড়াশোনা শেষ করে চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আলঝাইমা ও নিউরোডিজেনার ওপর পিএইচডি শুরু করেছিলেন সাদিয়া। যদিও বর্তমানে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তা স্থগিত রয়েছে।

নারীদের নিয়ে আমাদেরকে সংবাদ পাঠান ফেসবুক পেইজে

Comments by Facebook